রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)
বিবিসির জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ২য় স্থান প্রাপ্ত নোবেল জয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের পথিকৃৎ। ১৯৩০ সালে জার্মানিতে আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতে তিনি দর্শন, মানুষ ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ), শিলাইদহ (কুষ্টিয়া), পতিশ্বর (নওগাঁ) ইত্যাদি তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম
| সাহিত্যিক উপাদান | সাহিত্যিক তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ মে, ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা- ২৫ বৈশাখ, ১২৬৮) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ১৯৬১ সালে। |
| পারিবারিক পরিচিতি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ- প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, পিতামহি- দিগম্বরী দেবী, পিতা- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা- সারদা দেবী। তিনি পিতা-মাতার ১৫জন সন্তানের মধ্যে ১৪তম সন্তান এবং ৮ম পুত্র। |
| বিবাহ | তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ সালে ঠাকুরবাড়ীর অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণী দেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রবীন্দ্রনাথ নাম রাখেন মৃণালিনী দেবী । স্ত্রী ভবতারিণী দেবী খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের মেয়ে । |
| সম্পাদনা | তিনি ‘সাধনা’ (১৮৯৪), ‘ভারতী' (১৮৯৮), ‘বঙ্গদর্শন’ (১৯০১), ‘তত্ত্ববোধিনী' (১৯১১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন । |
| সাহিত্যিক ভাবধরা | সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে তিনি বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যে মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি, উপনিষদ, দোঁহাবলি, লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। |
| রাখিবন্ধন | হিন্দু-মুসলমান মিলনের লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ‘রাখিবন্ধন’ উৎসবের সূচনা করেন। |
| শ্রেষ্ঠ কাব্য | তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলনের নাম ‘সঞ্চয়িতা' । |
| ‘নাইটহুড’ | ব্রিটিশ সরকার ৩ জুন, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে ‘নাইটহুড’ বা ‘স্যার' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা বর্জন করেন। |
| বংশ পরিচয় | পিরালি ব্রাহ্মণ [বিধর্মীদের সংস্পর্শে এসে জাত হারানো ব্রাহ্মণরা হলেন পিরালি ব্রাহ্মণ]। (পারিবারিক উপাধি কুশারি)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ জগন্নাথ কুশারি পিরালি ব্রাহ্মণ মেয়ে বিয়ে করলে হিন্দু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয় এবং সমাজচ্যুত করা হয়। তার ছেলে পঞ্চানন কুশারি ১৮ শতকের শুরুতে খুলনার দক্ষিণডিহি থেকে কলকাতার গোবিন্দপুরে এসে জেলে পাড়ার পুরোহিতের কাজ করা শুরু করেন। ফলে অনেকে ঠাকুর বলে ডাকেন । এছাড়াও ইংরেজদের বাণিজ্য তরীতে দ্রব্য উঠা-নামার কাজ করলে ইংরেজরাও তাকে ঠাকুর বলে ডাকতেন। তারই উত্তর প্রজন্ম দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজদের কাছ থেকে অর্থের পাশাপাশি 'প্রিন্স' উপাধি লাভ করেন। ক্রমান্বয়ে শত বছরের ব্যবধানে জেলে সম্প্রদায়ের পুরোহিত থেকে কলকাতার প্রভাবশালী পরিবারে পরিণত হয়। |
| ছদ্মনাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৯টি ছদ্মনাম পাওয়া যায়। যথা: ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপট চন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা শ্রীমতি মধ্যমা, দিকশূন্য ভট্টাচার্য, নবীন কিশোর শর্মন। |
| উপাধি | রবীন্দ্রনাথকে যারা যেসব উপাধিতে ভূষিত করেন: গুরুদেব- মহাত্মা গান্ধী, কবিগুরু - ক্ষিতিমোহন সেন, বিশ্বকবি- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় |
| পদক প্রাপ্তি | রবীন্দ্রনাথ যেখান থেকে যেসব পদক পান: ডি. লিট- ১৯১৩ ( কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট ১৯৩৫ ( কাশী বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৬ ( ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৪০ (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)। |
| ব্রহ্মচর্যাশ্রম | ব্রহ্মচর্যাশ্রম ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন (বোলপুরে) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি ১৯২১ সালে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়' এ রূপান্তরিত হয়। |
তিনি ৭ আগস্ট, ১৯৪১ সালে (বাংলা- ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) দুপুর ১২টা ১০মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
Content added By
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
২২ শে শ্রাবণ
২৫ শে শ্রাবণ
২৫ শে বৈশাখ
২২ শে আষাঢ়
১৮৬৩
১৮৬১
১৮৫২
১৭৬১
দেবতার গ্রাম
দুই বিঘা জমি
পূজারিণী
সবুজের অভিযান
টি.এস. এলিয়ট
ডব্লিউ বি. ইয়েটস
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বুদ্ধদেব বসু
কাব্যগ্রন্থ
নাটক
উপন্যাস
প্রহসন